Climate Change & Bangladesh

Discussion in 'Study & Job Related' started by Boighar, Sep 5, 2017.

  1. Boighar

    Boighar Administrator
    Staff Member

    Joined:
    Jan 5, 2017
    Messages:
    583
    Likes Received:
    17,525
    আন্তর্জাতিক সমস্যা
    জলবায়ুর পরিবর্তন
    জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ

    সৌজন্যে >> Md Joynal Abedin


    ...........................................
    জলবায়ু পরিবর্তনঃ
    ----------------------------
    প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিই মূলত জলবায়ু পরিবর্তন যা বৈশ্বিক উঞ্চায়ন নামে পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তন বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকে যেমন- জৈব প্রক্রিয়া সমূহ, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত সৌর বিকিরণের পরিবর্তন , পৃথিবীর অক্ষরেখার দিক-পরিবর্তন ইত্যাদি। তবে, বর্তমান কালে, সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে,বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন বলতে মনুষ্যজনিত গ্রীন হাউজ গ্যাসের ফলে পৃথিবীর উষ্ণায়নকে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ ধরা হয় যা বৈশ্বিক উষ্ণতা নামেই বেশি পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বাতাস, ইত্যদি সূচকের পরিবর্তন হয় ও পরবর্তীকালে পৃথিবী পৃষ্ঠে তার প্রভাব পড়ে। এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে পৃথিবীপৃষ্ঠে হিমবাহের আয়তনের হ্রাস-বৃদ্ধি।
    ,
    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবঃ
    .........................................
    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলতে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে যে অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী নেতিবাচক এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার যাবতীয় বিশ্লেষণকে বোঝায়। বাংলাদেশ তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারনেই বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে পড়েছে ।২০১৪ বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সূচকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৬ষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের বিপর্যয়ের এই ঘটনাকে বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নব্বইয়ের দশকে প্রণীত ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট এ্যাকশন প্ল্যান (NEMAP)-এ দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।[৩] কোনো দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সত্যিই পড়ছে কিনা, তা চারটি মানদন্ডে বিবেচনা করা হয়:
    ১. জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ
    ২. কোথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হচ্ছে
    ৩. সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা কোথায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে
    ৪. ক্ষতিগ্রস্থ দেশটি ক্ষতি মোকাবিলায় বা অভিযোজনের জন্য এরই মধ্যে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
    বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সবগুলো দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং হচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও অনেক অনেক বেশি।
    ভূতাত্ত্বিকভাবে, দেশটি থেকে উত্তর দিকে রয়েছে সুউচ্চ হিমালয় পার্বত্যাঞ্চল, যেখান থেকে বরফগলা পানির প্রবাহে সৃষ্ট বড় বড় নদী (গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ইত্যাদি) বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবহমান এবং নদীগুলো গিয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। বর্ষাকালে নদীবাহিত পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে নদী উপচে পানি লোকালয়ে পৌঁছে যায়, এবং দেশটি এভাবে প্রায় প্রতি বছরই বন্যায় আক্রান্ত হয়। ষড়ঋতুর এই দেশে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে বর্ষা মৌসুম। এসময় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা অনেক সময়ই বন্যায় ভাসিয়ে দেয়। এছাড়াও মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের আগমুহূর্তে কিংবা বিদায়ের পরপরই স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, কিংবা সাগরে নিম্নচাপ, জল-ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয় , যার আঘাতে বাংলাদেশ প্রায় নিয়মিতই আক্রান্ত হয় । তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ক্ষতির পাশাপাশি কিছু সুবিধাও রয়েছে ।
    ;
    ;
    জলবায়ু পরিবর্তনে নেতিবাচক প্রভাব
    ...........................
    অস্বাভাবিক তাপমাত্রাঃ

    ............................
    বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রার দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও বিগত কয়েক বছরে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক আচরণ সেই পরিচিতি ম্লান হয়ে যাচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে । আবহাওয়া অধিদপ্তরসূত্রে জানা যায় গত ৫০ বছরে দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ০.৫%। এমনকি ২০৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বাংলাদেশের তাপমাত্রা গড়ে ১.৪° সেলসিয়াস এবং ২১০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ২.৪° সেলসিয়াস বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    তাপমাত্রার বাডার কারণে পানির বাষ্পীভবন বেড়ে যাবে এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়িয়ে দিবে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়া মানে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়া। ফলে তাপমাত্রার তুলনায়ও বেশি গরম অনুভূত হবে। তাছাড়া ২০৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১০-১৫ ভাগ এবং ২০৭৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ তা প্রায় ২৭ ভাগ বেড়ে যাবে। ফলে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে যাবে চরম হারে। এই আর্দ্রতা গরম বাড়িয়ে দিবে। উল্লেখ্য, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র মতে, ২০১০ খ্রিস্টাব্দ ছিল ২৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের উষ্ণতম বছর, আর ২০০১ থেকে ২০১০ সময়টুকু ছিল বিশ্বের উষ্ণতম কাল। আবার ন্গ্রীষ্মকালে যেখানে তাপমাত্রা বাড়বে, শীতকালে ঠিক একইভাবে তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে কমবে। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের পর ২০১১ খ্রিস্টাব্দে প্রচণ্ড শ্বৈতপ্রবাহের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। শ্রীমঙ্গলে নথিভুক্ত করা হয় ৬.৪° সেলসিয়াস। পরিবেশ ও জলবায়ুবিদদের মতে, এসময় অনুভূত তাপমাত্রা হয়েছিল আরো কম।[২১]
    .
    সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিঃ
    .....................................
    বঙ্গোপসাগরের সাথে বাংলাদেশের রয়েছে ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলভাগ থাকায় দিনে দিনে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ডুবে যাবার আশঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশ UNFCCC'র দেয়া তথ্যমতে, বিংশ শতাব্দিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা ১০-২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে । জাতিসংঘের আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যানেল-এর তথ্যমতে ২০৫০ খ্রিস্টাব্দে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অন্তত ১৭% ভূমি সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাবে৷ দ্যা সায়ন্টিফিক কমিটি অন এন্টার্কটিক রিসার্চ' (SCAIR) জানিয়েছে, যে হারে এন্টার্কটিকার বরফ গলছে, তাতে ২১০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৫ ফুট। বিগত দিনের পরিসংখ্যানের প্রায় দ্বিগুণ এই হিসাবের প্রেক্ষিতে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা DFDI এপরিমাণ উচ্চতাবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সমুদ্রে তলিয়ে যাবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত তালিকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম।[৮] এরকম অকষ্মাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ২০৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ দেশের প্রায় ৮%-এরও বেশি নিম্নাঞ্চল ও প্লাবনভূমি আংশিক অথবা স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়বে। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড বা WWF-এর মতে সমৃদ্রস্তরের উচ্চতাবৃদ্ধিতে ঢাকাও আক্রান্ত হতে পারে।সুন্দরবনে বর্তমানেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অনুভূত হয়। এদিকে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির হারের চেয়েও আরো বেশি হারে ডুবে যাচ্ছে। কারণ প্রতি বছর বঙ্গোপসাগর উপকূলের এলাকাসমূহের মাটি দেবে, বসে যাচ্ছে। এতে যেমন মানুষের হস্তক্ষেপ আছে, তেমনি আছে প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন।
    .
    লবণাক্ততা বৃদ্ধিঃ
    .........................
    বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানিপ্রবাহ শুকনো মৌসুমে স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে না। ফলে নদীর পানির বিপুল চাপের কারণে সমুদ্রের লোনাপানি যতটুকু এলাকাজুড়ে আটকে থাকার কথা ততটুকু থাকে না, পানির প্রবাহ কম থাকার কারণে সমুদ্রের লোনাপানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে লবণাক্ততা বেড়ে যায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায়। দক্ষিণ-পশ্চিম যশোরে এমনটা দেখতে পাওয়া যায়, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়[৩]। সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায় যায়, দেশের দাকোপসহ দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্র ভূভাগের অনেক ভিতর পর্যন্ত লোনাপানি ইতোমধ্যেই (২০০৯) ঢুকে পড়েছে[১২]। এই সমস্যা উপকূলীয় অঞ্চল থেকে যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর এবং কুমিল্লা পর্যন্ত উত্তর দিকে বিস্তৃত হয়েছে (২০১০), এবং আরো উত্তরে বিস্তৃত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।[১৩] ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে দেশে লবণাক্ত ভূমির পরিমাণ ছিল ৮,৩০,০০০ হেক্টর, আর ২০০১ খ্রিস্টাব্দে এসে তা হয়েছে ৩০,৫০,০০০ হেক্টর।[১৪] কম বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার সমস্যা দিনে দিনে আরো প্রকট হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।[১৩]
    ,
    মরুকরণ
    ....................
    দিনে দিনে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া ও সময়মত বন্যা না হওয়ার কারনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গিয়ে খরায় আক্রান্ত হবে বিপুল সংখ্যক মানুষ, এর মধ্যে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লোকই বেশি এবং বর্তমানে কিছুটা হলেও তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরকম খরায় কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে, তার ব্যাপারে বিভিন্ন উৎস থেকে আলাদা আলাদা উপাত্ত পাওয়া যায়। কারো মতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ খরায় উদ্বাস্তু হবে প্রায় ৮০লক্ষ মানুষ।
    .
    ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস
    ...................................
    বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পেয়ে দেখা দিচ্ছে স্থায়ী মরুকরণ। রাজশাহীর বরেন্দ্র এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। যদিও এর মধ্যে মানবসৃষ্ট কারণ, বিশেষ করে ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবও দায়ী তবে অনাবৃষ্টির দরুন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সুপেয় পানির অভাবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যাপক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায়ও ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাচ্ছে।
    .................
    সুপেয় পানির অভাবঃ
    .......................................
    লোনা পানির প্রবেশ , বৃষ্টিহীনতা , ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাওয়া ও খরার কারনে বাংলাদেশের বেশ কিছু এলাকা বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে সুপেয় বা মিঠা পানির তীব্র অভাব দেখা দিবে যা বর্তমানেই দেখা যাচ্ছে । জাতিসংঘের আন্তঃসরকার জলবায়ু পরির্বতন-সংক্রান্ত প্যানেলের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ সহ বেশ কয়েকটি দেশে এ সমস্যা ভয়াবহ রুপ নিবে ।
    .
    প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধিঃ
    ....................................
    জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর মধ্যে ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বন্যা, নদীভাঙন এবং ভূমিধ্বসের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। বিগত কয়েক বছরে ঘুর্নিঝড় সিডর , আইলা , নার্গিস , মহাসেন , রোয়ানু তারই প্রমান বহন করে । আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জার্মান ওয়াচ-এর প্রতিবেদন (২০১০) অনুযায়ী গত দুই দশকে বাংলাদেশে বড় ধরণের প্রায় ২৫০টিরও বেশি দুর্যোগ আঘাত হেনেছে । উল্লেখযোগ্য যে ঘুনিঝড সৃষ্টির জন্য সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হতে হয় । কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক হলেও বঙ্গপসাগরের তাপমাত্রা সারা বছরই এর উপরে থাকে । এর সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতো আছেই ।
    ,
    অতিবৃষ্টি ও তীব্র বন্যাঃ
    ....................................
    বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে হিমালয়ের বরফগলা পানিসহ উজানের নেপাল ও ভারতের বৃষ্টিপাতের যে বিপুল পানি, বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদ-নদী হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে তার ফলে দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতা । যার ফলে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে । ১৯৭৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮ ২০০১ ২০০৩ ও ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা লক্ষ্য করা যায় ।
    .
    ভূমিকম্প বৃদ্ধিঃ
    ...........................
    প্রাকৃতিকভাবেই কার্বন চক্রের প্রভাবে ভূমিকম্প হয়ে থাকে, বাংলাদেশেও তার ব্যতয় হয়না। এদেশের ভিতরে ও পার্শ্ববর্তি এলাকার বিগত প্রায় ২৫০ বছরের ভূমিকম্পের নথিভুক্ত তালিকা পাওয়া যায়। এ তালিকা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে ২০০৪ পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে ১০০'টিরও বেশি ভূমিকম্প; তন্মধ্যে ৬৫টিরও বেশি ঘটেছে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের পরে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিগত ৩০ বছরে ভূমিকম্প সংঘটনের মাত্রা বেড়েছে। েএছাডা সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকটি ভুমিকম্প জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। যা বড ধরনের কোন ভুমিকম্পের সুস্পষ্ট লক্ষন বলে মনে করে বিজ্ঞানীরা ।
    .
    সুনামির সম্ভাবনাঃ
    ..................................
    বাংলাদেশের সামগ্রিক ভূতাত্ত্বিক অবস্থা পর্যালোচনাপূর্বক ভূতাত্ত্বিকদের অভিমত, বঙ্গোপসাগর অভ্যন্তরে F1, F2, F3 এবং F4 নামে ৪টি ভূ-কম্পন উৎস রয়েছে। এগুলোর প্রতিটিই রিখটার স্কেলে ৭-৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে এবং যেকোনো সময় ভূমিকম্প সৃষ্টি করে সুনামি ঘটাতে পারে। ভূমিকম্প সংঘটনের মাত্র ৩০মিনিট থেকে ১ঘণ্টার মধ্যে সুনামি, বাংলাদেশের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। ১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে সমুদ্রতলে সৃষ্ট একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছিলো, এমনকি ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ থেকে ২১০০ কিলোমিটার দূরের সুমাত্রা থেকে বাংলাদেশের ফাটল বরাবর সৃষ্ট একটি ভূমিকম্পের দরুন সৃষ্ট সুনামি প্রায় ৩ঘণ্টা পরে বাংলাদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছিলো।
    .
    মৎস্যসম্পদ হ্রাসঃ
    ................................
    জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদে েএক বিরুপ প্রভাব ফেলছে। বৃষ্টিপাতের অস্বাভাবিক আচরণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি করে চলেছে প্রতিনিয়ত। মাছের প্রজননে নানাবিধ সমস্যা যেমন: প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় এবং তাপমাত্রা বেশি থাকায় মাছ কৃত্রিম প্রজননে সাড়া না দেয়ায় প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, এজন্য ডিম শরীরে শোষিত হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, তাপমাত্রা ২৯-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গেলে পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায় ফলে পানিতে অক্সিজেন কমে যায়, আর তাতে প্রজননক্ষম মাছ অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ডিমের আবরণ পাতলা হয়ে যায়। এতে সমগ্র পোনা উৎপাদন ব্যাহত হয়।
    .
    জীবজন্তুর অবলুপ্তি বা হ্রাসঃ
    ..........................................
    সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে হারিয়ে যাবে, বা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে দেশের বিপুল পরিমাণ জীবজন্তু। সমুদ্রের লোনা জলের উচ্চতা বাড়লে খুলনার সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বিচরণোপযোগী বনভূমি কমে যাবে। এতে বাঘের শিকার কমে যাবে, ফলে স্বভাবতই বাঘের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। গাঙে বিচরণকারী শুশুক কমে যাবে। মায়া হরিণ চিরতরে হারিয়ে যাবে। চিত্রা হরিণও কমে যাবে। পলাশ ফিশ ঈগলও নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের ধারণা। অন্যদিকে কীটপতঙ্গ, যেমন: মশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
    .
    উদ্ভিদ প্রজাতির ধ্বংসঃ

    .....................................
    সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশ , খরা সহ বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে । ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলের যে ভারসাম্য তা ভেঙ্গে পড়বে । যার ফলে অনেক উদ্বিদ ও প্রাণী বিশেষ করে জলজ ও ক্ষুদ্র প্রজাতি ধ্ব্ংস হয়ে যাবে । যা মানবজাতির উপর এক বিরুপ প্রভাব তৈরী করবে ।
    এছাডাও কৃষিভিত্তিক উৎপাদন হ্রাস পাবে
    পাখি প্রজাতির বিলুপি্ত ঘটবে বা হ্রাস পাবে
    খাদ্য সংকট ‍দেখা দিবে
    মানুষের স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়বে
    উদ্ভাস্তু মানুষের সংখ্যা বাড়বে
    .
    .
    বাংলাদেশের করনীয়ঃ
    ................................
    ১. জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বাংলাদেশে যে বিপুল পরিমান শরনার্থী তৈরী হবে সেই বোঝা এই ক্ষুদ্র দেশটির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয় । তাই বিশ্বের যে দেশগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম সেই দেশগুলোতে অভিবাসী প্রেরনের উদ্যেগ নিতে যা ইত্যেমধ্যে অনেক দেশ নিয়েছে ।উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিবাসী প্রেরণে সক্ষম হলে ভবিষ্যৎ জলবায়ু শরণার্থী সমস্যা মোকাবেলা অনেক সহজ হবে।
    ২. বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ ঝুঁকি মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ একান্ত প্রয়োজন।
    ৩. উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষার জন্য টেকসই বনায়ন প্রকল্প গ্রহণ ও পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।
    ৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য উপকূলীয় এলাকায় টেকসই আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
    ৫. ভূমি ব্যবহারের সুষ্ঠু পরিল্পনার অভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত অনেক কৃষি ও আবাদযোগ্য জমি অব্যবহৃত রয়ে গেছে। এই অব্যবহৃত জমিগুলোর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আবার কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধ্যমেও জলবায়ু শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলা করা যেতে পারে।
    ৬. উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে অদক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
    ৭. বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা আবশ্যক।
    ৮. বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশকে বিভিন্ন সমস্যার আবর্তে ফেলছে। উন্নত বিশ্বের যে রাষ্ট্রগুলো এই সমস্যার জন্য দায়ী তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা প্রাপ্তির জন্য সচেষ্ট হতে হবে এবং কৌশল নির্ধারণের মাধ্যমে সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।
    ,
    ,প্রশ্ন :
    প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের উপর আপনার মতামত দিন । অথবা কপ- ২১ সম্মেলনর উপর আপনার মতামত ব্যক্ত করুন ।
    অথবা কপ-২১ বা প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন কি দরিদ্র দেশগুলোর চাহিদা পারবে । আলোচনা করুন

    এই উত্তরটি উপরের প্রশ্নের জলবায়ু পরিবর্তন অংশটুকু দিয়ে শুরু করতে পারলে ভাল
    .
    ,
    যুগ যুগ ধরে নানা জীব জন্তু আর প্রাকৃতিক প্রতিকুল
    পরিবেশের সাথে লডাই করে মানবজাতির জন্য গড়ে তোলা বাসযোগ্য পৃথিবীকে
    আজ আমরা নিজেরাই নিজের হাতে ধ্বংস করতে চলেছি ।
    বৈশ্বিক উঞ্চতার কারনে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে মানবজাতি যে প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে ঠিক এভাবেই কথা গুলো বলেছিলেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টিন হ্যাজার্ড । তার একথা থেকেই বোঝা যায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে মানবজাতি কতটা বিপদ বা ঝুকির দিকে অগ্রসর হতে চলেছে ।আর বিশ্ব নেতারাও হয়ত তার উক্তিটির যথার্থতা বুঝতে পেরেছেন । হয়ত বা সে কারনে ৩০ নভেম্বর , ২০১৫ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুরু হওয়া ১২ দিনের জলবায়ু সম্মেলনে (কপ -২১ নামে পরিচিত) পৃথিবীর ১৯৫টি দেশের প্রতিনিধিরা ১৪দিন ধরে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও দরকষাকষির পর শেষ পর্যন্ত একটি সর্বসম্মত চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা বিশ্বনেতাদের এই অর্জনকে বড করেই দেখছেন । কারন পাঁচ বছর আগে কোপেন হেগেনে অনুরূপ একটি সম্মেলন হয়েছিল কোন চুক্তি ঘোষণা এবং প্রস্তাব গ্রহণ ছাড়াই। এর আগে ১৯৯৭ সালে জাপানের প্রাচীন রাজধানী কিয়োটতে ( কিয়েটো প্রটোকল নামে ) বিশ্বের উষ্ণতা রোধকল্পে একটি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো সামগ্রিকভাবে বায়ুমণ্ডলে কার্বণ নিঃসরণের মাত্রা ১৯৯০ সালের তুলনায় শতকরা ৫ দশমিক ২ ভাগ হারে হ্রাস করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট নিজেকে এই চুক্তি থেকে সরিয়ে তা আর আলোর মুখ দেখেনি । বলা যায় এর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে দায়ী।
    এরপর থেকে একের পর এক বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে জলবায়ু সম্মেলন হয়ে আসছে। কিন্তু কার্যকর কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়নি। সে তুলনায় প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন বা কপ-২১ অন্তত একটি চুক্তিতে উপনীত হতে পেরেছে এটাই সবচাইতে বড় সান্ত্বনা বা সাফল্য ।
    .
    সাফল্যঃ
    .............
    এই চুক্তি অনুসারে

    .
    ১. এই শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন
    ২. গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
    ৩. প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
    ৪. জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা
    ৫. জলবায়ু চুক্তি হবে – ২২ এপ্রিল , ২০১৬ থেকে ২১ এপ্রিল , ২০১৭ এর মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ সভায় এবং এতে সাক্ষর করবেন বিভিন্ন দেশের -রাষ্ট্র প্রধান
    ৬. প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী , জলবায়ু অর্থায়নের জন্য ১০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে
    ৭. ২০২০ সাল থেকে উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় ১০০ বিলিয়ন ডলার (৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা) দিতে হবে।
    ৮. চুক্তিটি ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হবে।
    চুক্তিটিকে পৃথিবী রক্ষার সবচেয়ে ভালো সুযোগ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কার্বন নির্গমনে পৃথিবীর শীর্ষ দেশ চীনও এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখতে একমত হয়েছেন শীর্ষ কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। দীর্ঘদিন আলোচনার পর প্যারিসে সম্মেলনে ১৯৫টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং প্রতিনিধিরা এতে একমত হন। জলবায়ু চুক্তিকে উচ্চাকাক্সক্ষী হিসেবে বর্ণনা করে ওবামা বলেন, পৃথিবী এক হলে কী করা সম্ভব একসঙ্গে আমরা সেটাই প্রমাণ করেছি।
    .
    ব্যর্থতা:
    ................

    বিশ্বনেতাদের মুখে এতসব উচ্চ আকাংখার কথা শুনেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি পরিবেশ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে এই সম্মেলনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলাঁদ নিজ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি চুক্তির খসড়া তৈরি করেছেন মাত্র । এটা তাদের কুটনৈতিক সাফল্য বলা যায় । প্রকৃতপক্ষে কার্যকর কোন দিক নির্দেশনা নেই এই খসড়া চুক্তিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তিতে সবার জন্য পছন্দ এমন বাছা বাছা শব্দে ভরপুর এতে চাতুর্যের সঙ্গেই এক ধরনের নমনীয়তা রাখা হয়েছে। তার মানে হলো, এই খসড়া চুক্তির শব্দগুলোর বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যাবে ফলে এর মূল স্প্রিট থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ এবং শঙ্কা দুটোই থাকছে। চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে মাত্র। চুক্তিটি অনুমোদন দেয়নি প্যারিস সম্মেলন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত আর একটি সম্মেলনে চুক্তিটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
    অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিভাগের পরিচালক ডায়েনা লিভারম্যান বলেছেন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এ সম্মেলনকে বাহবা দেওয়ার মতো কিছুই নেই। কেননা এই সম্মেলনের চুক্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে গোটা বিশ্বে প্রতিদিন যেভাবে আরও কার্বন নির্গমণ হয়ে পৃথিবীকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবে, তার তো কোনো সুরাহা হবে না।
    (কালের কণ্ঠ ১৪ ডিসেম্বর/১৫)
    প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন নিউইয়র্কে একটি সম্মেলন ডাকবেন। ওই সম্মেলনে জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। শতকরা ৫৫ ভাগ দেশ যদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে (যার মাঝে আবার শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে) তা হলেই চুক্তিটি কার্যকর হবে। প্রশ্নটা এখানেই। বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো প্যারিসে উপস্থিত থেকে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া তৈরিতে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করলেও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী সংস্থাগুলোর চাপ, কর্পোরেট হাউসগুলোর ব্যবসায়িক কৌশল ইত্যাদি নানা কারণে বড় দেশগুলো নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই হলো সবচাইতে বড় উদাহরণ।
    তাছাড়া চীন ও ভারত বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ। কার্বন হ্রাসের বিষয়ে দেশ দুটির যুক্তি হচ্ছে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করলে তাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। চীন এবং ভারত সাধারণত কয়লা জ্বালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। কয়লা পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর কার্বন ড্রাইঅক্সাইড নির্গমণ হয় । যা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট। ফলে চীন ও ভারত শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিতে বিশ্বস্ত থাকবে কিনা, সেটা একটা বড় প্রশ্ন হয়ে রইল। যদিও তারা শেষ মুহূর্তে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে।
    বিশ্বের প্রায় ১৯৫টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রায় সবাই প্যারিস সম্মেলনে যোগ দিয়ে সম্মেলনের গুরুত্ব অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেড়েছে। একটি সমঝোতার খসড়ায় সকলেই স্বাক্ষর করেছেন। এটি কিন্তু আসল চুক্তি নয়, আসল চুক্তি স্বাক্ষর হবে নতুন বছরের প্রথমার্ধে। চুক্তি মানার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি খসড়া চুক্তিতে। ফলে প্রত্যাশার সঙ্গে শঙ্কাও কাজ করছে মানুষের মনে।
    এ চুক্তি অনুসারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখতে হবে। এর জন্য বায়ুমণ্ডলের কার্বন নির্গমণ কমিয়ে আনতে হবে কিন্তু কোন দেশ কতটুকু কমাবে তার কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই খসড়া চুক্তিতে। প্রশ্ন হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে কি একই কাতারে ফেলা হবে। অথবা রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশগুলো কতটুকু কমাবে। এ ব্যাপারে প্যারিস সমঝোতার খসড়া চুক্তিতে কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। অথচ দরিদ্র্যও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি মাত্র দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে বৃদ্ধির হার রাখতেও সম্মত নয় ধনীরাষ্ট্রগুলো।
    কানকুন সম্মেলনে শিল্পোন্নত দেশগুলোর অঙ্গিকার ছিল ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলার করে প্রতিবছর বরাদ্দ দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে। যাতে করে বেড়িবাঁধ জাতীয় প্রটেকশন নির্মাণে ব্যয় করে সমুদ্রের রুদ্রমূর্তি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যায়। প্যারিস চুক্তিতে বলা হল, জলবায়ু অর্থায়নের জন্য ১০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে। এটি গরীব দেশগুলোর প্রতি ধনী দেশগুলোর তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। প্যারিস সম্মেলনে ধনী দেশগুলো গরিব দেশগুলোকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ফলে যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে তা হলো প্যারিস চুক্তি শেষপর্যন্ত কি বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে আদৌ কি কোনো ভূমিকা রাখবে? নাকি আবারও ২০০০ বা ২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে সেটাই দেখার বিষয়
    কারণ এর আগেও ২০০০ সালে হেগে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে সম্মেলন স্থগিত হয় এবং ২০০১ সালের মার্চমাসে এসে যুক্তরাষ্ট্র কিয়োটো প্রটোকল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়।​
     
    #1
    khaled1984, bokariad, MI009 and 19 others like this.

Share This Page